নারীর হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে করণীয়

বেশির ভাগ মানুষের ধারণা, হৃদরোগ শুধু পুরুষের হয়। এটি ঠিক নয়। নারীরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী নারী-পুরুষভেদে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো হৃদরোগ। নারীরা প্রায়ই পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন লক্ষণ এবং ঝুঁকি অনুভব করেন।
নারীর ঝুঁকির কারণ
বেশ কিছু কারণে একজন নারীর হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে–
হরমোন: ইস্ট্রোজেন কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমে কিছু প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব দেখা দেয়, কিন্তু এ সুবিধা মেনোপজের পর কমে যায়; যা নারীর জন্য ঝুঁকি বাড়ায়।
বয়স: ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে নারীরা এতে বেশি আক্রান্ত হন।
পারিবারিক ইতিহাস: হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস নারীর মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ধূমপান: ধূমপায়ী নারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকিতে বিশেষভাবে অবদান রাখে।
ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষের তুলনায় নারীর হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি।প্রতিরোধের চাবিকাঠি
লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানুন: হৃদরোগের ক্ল্যাসিক এবং অ্যাটিপিকাল উভয় লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি কোনো ধরনের অস্বস্তি বা কষ্ট অনুভব করেন তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং অন্যান্য ঝুঁকির কারণ পর্যবেক্ষণ করা যায়; যা প্রাথমিক শনাক্তকরণে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের চিকিৎসা ইতিহাস জানা থাকলে নারীরা তাদের ঝুঁকি বুঝতে এবং ব্যবস্থা নিতে সচেষ্ট থাকতে পারবেন।
রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা: জীবনধারা পরিবর্তন অথবা ওষুধ কিংবা উভয়ের সংমিশ্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে।
স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ: নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ, প্রতিদিন ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধূমপান এড়ানোর মাধ্যমে হার্টকে সুস্থ সবল রাখা সম্ভব।প্রতিরোধে কী করবেন
স্বাস্থ্যকর ডায়েট: শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন, ফল, শাকসবজি এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিগুলো খাদ্য তালিকায় যুক্ত করুন। স্যাচুরেটেড ও ট্রান্সফ্যাট এবং সোডিয়ামযুক্ত শর্করা সীমিত করুন।
শারীরিক ক্রিয়াকলাপ: প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হালকা ও ৭৫ মিনিট ভারী ব্যায়াম করুন।
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: স্ট্রেসকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ধ্যান, যোগব্যায়াম ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শিথিলকরণ কৌশলগুলো গ্রহণ করুন।
ওষুধ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি: আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকে তাহলে নির্ধারিত ওষুধ ও নিয়মাবলি সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করুন।
লেখক: সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর, ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা